বিএনপি নেতাকে হত্যার আগে করা ভিডিও ভাইরাল: ১১ জনকে দায়ী করে গেছেন আবুল কালাম জহির

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরে স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল কালাম জহিরকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ঘটনার আগে তাঁর করে যাওয়া একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মাত্র ৩৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে নিজের সম্ভাব্য মৃত্যুর জন্য ১১ জনকে দায়ী করে গেছেন তিনি। সোমবার রাত ১০টার পর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।ভিডিওতে আহত অবস্থায় কথা বলতে শোনা যায় আবুল কালাম জহিরকে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন,
“আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে ১১ জন–বিশেষ করে ছোট কাউছার, তার তিন ভাই, আমার চাচাতো ভাই খোরশেদ, শাহ আলম ও তার দুই ছেলে, স্বপন, আলমগীর ও সুমন। যদি আমার মৃত্যু হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।”
এই স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মন্তব্য করছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আকতার হোসেন। তিনি বলেন,
“ভিডিও আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে লতিফপুর এলাকার শাহ আলমের ছেলে ইমন হোসেন, মমিন উল্যাহর ছেলে আলমগীর হোসেন এবং নুরুল আমিনের ছেলে হুসাইন কবির সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।”

হত্যাকাণ্ডের আগে করা ওই ভিডিওর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবারই নিহতের স্ত্রী আইরিন আক্তার বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় ভিডিওতে উল্লেখ করা ১১ জন ছাড়াও আরও ২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, মামলার তথ্য, ভাইরাল ভিডিও ও স্থানীয়দের সাক্ষ্য মিলিয়ে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চন্দ্রগঞ্জ এলাকার মোস্তফার দোকানের সামনে আবুল কালাম জহিরকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।
তিনি স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
ঘটনার সময় ছোট কাউছারের অবস্থান নিয়ে একাধিক তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, হত্যার সময় তিনি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে ছাত্রদল সদস্য ছোট কাউছার নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ক্রিকেট খেলার ভিডিও পোস্ট করেন, ক্যাপশনে লেখেন—“আউট”।
এই পোস্টকে অনেকেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা সরাসরি কাউছার হোসেনকে ঘটনাটির মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে দায়ী করেছেন।
অভিযুক্ত কাউছার হোসেন সাংবাদিকদের জানান,“আমার ফেসবুক আইডি থেকে যেই ভিডিওটি পোস্ট হয়েছে, এর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই। ঘটনাকালে আমি লতিফপুর বাজারের মোস্তফার দোকানেই ছিলাম। কালাম ভাই বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমার সঙ্গেই ঘুরেছেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।
পুলিশ বলছে,ভিডিওতে দেওয়া অভিযোগ,কাউছারের ফেসবুক পোস্ট,হত্যাকাণ্ডের সময় কার কোথায় অবস্থান ছিল,সব কিছুই তদন্ত করা হচ্ছে।
নিহতের পরিবার এবং স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতে মামলাটি আরও জটিল মোড়
নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে
Share this content:



Post Comment