Loading Now

দুর্গা নেই মন্দিরের

print-news দুর্গা নেই মন্দিরের

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার সুন্দরদী মহল্লায় প্রায় দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী দুর্গা মন্দির ভেঙে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। দিনের আলোয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রভাবশালী পক্ষের ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি দিনভর ঘরের দরজা বন্ধ করে আতঙ্কে অবস্থান করেন।

ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর, ২৪ নভেম্বর সকালে জমির মালিক নারায়ণ মিত্র গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করেন-১৯ নভেম্বর সকালে তার বড়ভাই বজ্রবিলাস মিত্রের ছেলে রিপন মিত্র ও সুমন মিত্র লোকজন নিয়ে পরিকল্পিতভাবে দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘সুন্দরদী মিত্রবাড়ি দুর্গা মন্দির’ ভেঙে ফেলে এবং জায়গাটি জোরপূর্বক দখল করে নেয়।

নারায়ণ মিত্র জানান, ১৯৮৬ সালে তিনি দলিলমূলে ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন, যার মধ্যে মন্দিরটিও অন্তর্ভুক্ত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “প্রতিপক্ষের প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে বাধা দেওয়ার সুযোগ ছিল না। আমরা ভয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে ছিলাম।”

তার ছেলে নন্দ মিত্র জানান, পরিবারটির বংশপরম্পরায় দেড়শ বছর ধরে এই মন্দিরে দুর্গাপূজাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সরকারি প্রণোদনার আওতাভুক্ত মন্দিরটি নিয়মিত কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হতো। তিনি অভিযোগ করেন-মন্দির ভেঙে প্রতিমা, পূজার সামগ্রী রাতের আঁধারে সরিয়ে ফেলা হয় এবং কিছু মালামাল বিক্রিও করে দেওয়া হয়েছে। “এটি শুধু জমি দখল নয়, আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে নির্মম আঘাত,” বলেন নন্দ মিত্র।

অভিযোগ অস্বীকার করে রিপন মিত্র ও সুমন মিত্র দাবি করেন, জমিটি তাদের ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া। মায়ের অসুস্থতা ও ঋণের কারণে বাড়িঘর বিক্রি করতে হয়েছে, এখন থাকার জায়গা না থাকায় সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা জানান-প্রতিমা ও সামগ্রী রাতের নয়, সকালে পাশের লোকনাথ মন্দিরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক ননী দাস বলেন, “মন্দির আমাদের বিশ্বাস, অনুভূতি ও পরিচয়ের প্রতীক। ঘটনাটি শুনে গভীর কষ্ট পেয়েছি।”

মন্দির ভাঙার ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি-এটি শুধু জমি বিরোধ নয়, একটি ধর্মীয় ঐতিহ্যের ওপর প্রকাশ্য আক্রমণ। দ্রুত জবরদখলকৃত জমি উদ্ধার করে ঐতিহাসিক মন্দির পুনঃস্থাপন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম জানান, “অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম বলেন, “যেহেতু জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষই দাবি করছে, তাই আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

Share this content:

Post Comment

অন্যান্য সংবাদ