গৌরনদীতে তিন রহস্যজনক মৃত্যু-যুবলীগ সদস্যসহ দুই নারীর লাশ উদ্ধার, দুটিতে হত্যার অভিযোগ

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় তিনটি পৃথক ঘটনায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে যুবলীগের সদস্য আমিনুল ইসলাম হাওলাদারের (৪২) মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করছে পরিবার। অপরদিকে দুই নারীর মধ্যে একজনকে শ্বাসরোধে হত্যা এবং অন্যজন আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করছে স্বজনরা।
যুবলীগ সদস্যের লাশ উদ্ধার পরিবারের অভিযোগ পরিকল্পিত হত্যা
খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের নিজ বাড়ির পুকুরঘাটের নিচ থেকে রোববার সকালে যুবলীগ সদস্য আমিনুল ইসলাম হাওলাদারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনরা। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মৃত মাষ্টার জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদারের মেঝ ছেলে আমিনুল শনিবার রাত ১০টার দিকে ঘর থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি।
নিহতের স্ত্রী পারভিন আক্তার বলেন, “আমার স্বামী নিয়মিত রাতে পুকুরঘাটলায় বসে সময় কাটাতেন। রাতে বের হওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেননি। ভোরে ঘাটের সিঁড়িতে তার ফোন ও স্যান্ডেল পাই। পরে নিচ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।”
ঢাকা থেকে এসে বড়ভাই মাজাহারুল ইসলাম হাওলাদার ও ভগ্নিপতি মিন্টু সরদার অভিযোগ করে বলেন, “দুর্বৃত্তরা গলা ও মাথায় জখম করে তাকে হত্যা করেছে। এরপর লাশ ঘাটলার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।” তারা এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
গৌরনদী থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, “লাশের গলা ও মাথায় জখম আছে। ময়নাতদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। স্বজনরা যে মামলা দিতে চাইবে, তা গ্রহণ করা হবে।”
ঘরেই নিহত সবিতা মন্ডল পরিবারের দাবি শ্বাসরোধে হত্যা
একই দিন সকালে নলচিড়া ইউনিয়নের চররমজানপুর গ্রামে ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় সবিতা মন্ডল (৬০)-এর লাশ। পরিবার দাবি করেছে—রাতে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা ঘরে লুকিয়ে ছিল। সুযোগ বুঝে মালামাল লুটের সময় সবিতা বাধা দিলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো পাওয়া গেছে।
পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল মর্গে পাঠিয়েছে। ওসি তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সবিতা মন্ডলের শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও তদন্ত চলছে।
গলায় ফাঁস দিয়ে তরুণী ইভার আত্মহত্যা
নলচিড়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ইভা বেগম (২১) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছেন তার স্বামী আক্কাস হাওলাদার। পাঁচ মাস আগে তাদের বিয়ে হয়। ইভা বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে ফেরার পরপরই আত্মহত্যা করেন বলে জানানো হয়েছে। আত্মহত্যার কারণ কেউ জানাতে পারেনি।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “তিনটি মরদেহই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে
Share this content:



Post Comment