আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ উঠেছে। তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে ওই বিদ্যালয়ের ৫১ জন শিক্ষার্থী অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের অপসারনের দাবীতে স্থানীয় অভিভাবকদের বিক্ষোভ মিছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়স্ত্রন করেন।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রামানন্দেরআঁক মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর সহকারী শিক্ষক (গনিত) ভজন ওঝা বিভিন্ন সময় বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বিভিন্ন ভাবে শ্লীলতাহানী করে আসছিল। মান সম্মানের ভয়ে এতদিন শিক্ষার্থীরা মুখ না খুললেও এবার ওই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে ২০ নভেম্বর শ্লীলতাহানী করেন ওই শিক্ষক। অভিযুক্ত শিক্ষক ভজন ওঝার বিরুদ্ধে ছাত্রীর পিতা প্রধান শিক্ষক কার্তিক চন্দ্র বাড়ৈর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই লিখিত অভিযোগে ৫১ জন স্থানীয়দের স্বাক্ষর রয়েছে। তিন দিনের মধ্যে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উল্লেখ করেন তারা।
এঘটনায় গতকাল রোববার সকালে স্থানীয় ও শিক্ষার্থী অভিভাবকরা শিক্ষক ভজন ওঝার অপসারনের দাবীতে বিদ্যালয় চত্বরে ঘন্টাব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল করে। সংবাদ পেয়ে থানার এসআই সৌমেন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়স্ত্রন করেন।
ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর শিক্ষার্থী তোবা সরকার ও শিথি হালদার জানান, ওই শিক্ষকের অঙ্গভঙ্গি ভাল না। তিনি অনেক সময় বিনা কারনে আমাদের গায়ে হাত দেন।
এবিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ভজন ওঝা জানান, আমার বিরুদ্ধে যে ঘটনাটি উঠেছে তা সত্য নয়। আমি নিজেই বলতে পারছি না, কি কারনে এধরনের ঘটনা ঘটছে।
রামানন্দেরআঁক মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কার্তিক চন্দ্র বাড়ৈ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তিনদিনের মধ্যেই ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক আমাকে ঘটনাটি বলেছে। আমি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। ওই স্কুলে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে যেতে বলেছি। সে এসে ঘটনা জানালে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।